চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রত্যাশার তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জনের তথ্য দিয়েছে সুইডিশ টেলিকম যন্ত্রপাতি নির্মাতা এরিকসন। কোম্পানিটির মুনাফার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে উত্তর আমেরিকায় বিক্রি বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাস। তবে মার্কিন শুল্ক মুনাফার মার্জিন বৃদ্ধি সীমিত করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে এরিকসন। খবর রয়টার্স।
পুনর্গঠন ব্যয় বাদ দিয়ে গত প্রান্তিকে এরিকসনের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭০০ কোটি সুইডিশ ক্রোনা বা ৭২ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। যেখানে গত বছর এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১ হাজার ১৯০ কোটি ক্রোনা লোকসানে ছিল। এর আগে এলএসইজির বিশ্লেষক জরিপে গড় পূর্বাভাস ছিল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬১০ কোটি ক্রোনা মুনাফা করবে এরিকসন।
এরিকসনের প্রধান নির্বাহী বোরিয়ে একহোম এক বিবৃতিতে জানান, কোম্পানিটি ব্যয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। গত প্রান্তিকে এর সুফল পাওয়া গেছে। এছাড়া দক্ষতা অর্জনে আরো মনোযোগী হয়েছে।
কোম্পানিটি আরো জানিয়েছে, মার্কিন শুল্ক মুনাফার মার্জিন বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
এরিকসনের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা লার্স সান্দস্ত্রোম বলেন, ‘বিশ্বের অনেক অংশে, এমনকি উত্তর আমেরিকাতেও আমাদের কারখানা রয়েছে। তাই শুল্ক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা উৎপাদনে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করব। অবশ্যই শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই যে শুল্ক থেকে আমরা পুরোপুরি নিরাপদ থাকব।’
পরিচালন মুনাফা বাড়লেও বিক্রির প্রবৃদ্ধিতে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস পূরণ করতে পারেনি এরিকসন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬১০ কোটি ক্রোনা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার দরপতনে ৪৭০ কোটি ক্রোনা আয় কমেছে। এলএসইজির জরিপ অনুযায়ী, গড় পূর্বাভাস ছিল ৫ হাজার ৯৩০ কোটি ক্রোনা। তবে অর্গানিক বিক্রি বেড়েছে ২ শতাংশ।
এরিকসন বিক্রির প্রবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বৃহত্তম বাজার উত্তর আমেরিকায়, যা ভারতের মতো মন্থর বাজারের প্রভাবকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির প্রবৃদ্ধির ফলে এরিকসনের মুনাফার মার্জিন বেড়ে হয়েছে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে গত বছর মুনাফা মার্জিন ছিল ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ। তখন ভারতের মতো কম মার্জিনযুক্ত বাজারে এরিকসনের পণ্য বেশি বিক্রি হয়েছিল।